মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের ভাগ্যে কী আছে? তারা কি টাকা ফেরত পাবে?
মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের ভাগ্যে কী আছে? তারা কি টাকা ফেরত পাবে?
কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ সোনা-দানা ও গবাদি পশু বন্ধক রেখেছেন, আবার কেউ ঋণ করে টাকা জোগাড় করেছেন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য। অনুমোদন ও ভিসা পাওয়ার পরও হাজারো বাংলাদেশি কর্মীর সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
কারণ, কর্মী ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেও যেতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অন্যদিকে যারা যেতে পেরেছেন, তাদেরও তিন থেকে চারগুণ বেশি বিমান ভাড়া দিতে হয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকার সময়সীমা নির্ধারণ করে আগেই ঘোষণা দেওয়ার পরও কেন এমন সংকট তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সিন্ডিকেট করে লোক পাঠানোর কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থা রামরুর মতে, সিন্ডিকেট করে লোক পাঠানোর প্রতিযোগিতার ফলেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বিবিসি বাংলাকে জানান, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর 'অসম আদান-প্রদানের' কারণেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।
bb
b
এ কারণে যাদের টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হয়নি, তাদের টাকা ফেরত দিতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
শনিবার সিলেটে গণমাধ্যমের কাছে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি বা বায়রার গাফিলতির কারণেই শ্রমিকরা মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।
"আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি বা বায়রা বলছে, শেষ মুহূর্তে বেশ কিছু ই-ভিসা ইস্যু হওয়ার এবং ফ্লাইটের স্বল্পতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সবাইকে মালয়েশিয়া পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে বায়রা।
সংগঠনটির সদ্য সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় মিশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা সময় বাড়ায়নি।”
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য কর্মীরা বিমান টিকিট কেনার জন্য ট্রাভেল এজেন্টদের ওপর নির্ভর করে। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) বলছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), এবং বায়রার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
b
bb
আটাবের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম আরেফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের গাফিলতি ছিল। যখন মালয়েশিয়া সরকার ডেডলাইন দিয়েছে, তখন বায়রা ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করা উচিত ছিল।”

Comments
Post a Comment